বাংলাদেশে কেন প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা
সবচেয়ে জরুরি
আপডেট: ২৯.০৪.২০২৬
আমরা
সবাই জানি—“প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ভালো।”
তবুও বাস্তবে বেশিরভাগ মানুষ অসুস্থ না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্য
নিয়ে গুরুত্ব দেয় না। অথচ সামান্য সচেতনতা ও নিয়ম মেনে চললে অনেক বড় রোগ সহজেই
প্রতিরোধ করা সম্ভব। বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তাই রোগ হলে চিকিৎসা নয়,
বরং রোগ হওয়ার আগেই প্রতিরোধ করা সবচেয়ে জরুরি।
প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কী
(সহজভাবে)
রোগ
হওয়ার আগেই নিজেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য যেসব অভ্যাস ও ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেগুলোকেই
প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা বলা হয়।
যেমন:
·
সময়মতো টিকা নেওয়া
·
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা
·
সুষম খাবার খাওয়া
·
নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করা
·
নির্দিষ্ট সময় অন্তর স্বাস্থ্য
পরীক্ষা করা
কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ
১.
কম খরচে বড় সুরক্ষা
·
বাংলাদেশে চিকিৎসার খরচ দ্রুত বাড়ছে।
·
হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা কিডনি
রোগের চিকিৎসা করতে লাখ লাখ টাকা লাগে
·
কিন্তু নিয়মিত হাঁটা, স্বাস্থ্যকর
খাবার ও প্রেশার-ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখলে এসব ঝুঁকি অনেক কমে যায় । অর্থাৎ,
অল্প খরচে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।
২. বড় রোগ ধীরে ধীরে তৈরি হয়
বাংলাদেশে
এখন যেসব অসুখ বেশি দেখা যাচ্ছে:
·
ডায়াবেটিস
·
উচ্চ রক্তচাপ
·
হৃদরোগ
·
ক্যান্সার
এসব
রোগ একদিনে হয় না।
·
দীর্ঘদিনের খারাপ খাদ্যাভ্যাস
·
শারীরিক পরিশ্রমের অভাব
·
ধূমপান ও মানসিক চাপ
আগেভাগে
পরীক্ষা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন করলে এসব রোগ অনেকটাই প্রতিরোধ করা যায়।
৩. পরিবার ও দেশের ওপর চাপ কমে
একজন
ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ হলে:
·
পরিবারের আর্থিক চাপ বেড়ে যায়
·
কর্মক্ষমতা কমে যায়
·
হাসপাতালগুলোতে ভিড় বাড়ে
প্রতিরোধমূলক
ব্যবস্থা নিলে ব্যক্তি,
পরিবার ও দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ কমে।
৪. সুস্থ জীবন মানেই উৎপাদনশীল জীবন
সুস্থ
থাকলে:
·
নিয়মিত কাজ করা যায়
·
আয় বৃদ্ধি পায়
·
পরিবারকে সময় দেওয়া যায়
অসুস্থতা
শুধু শরীর নয়, জীবনযাত্রার মানও কমিয়ে দেয়।
বাস্তব উদাহরণ (বাংলাদেশের
প্রেক্ষাপটে)
একজন
মানুষ যদি খাবারের আগে সাবান দিয়ে হাত ধোয় ও বিশুদ্ধ বা ফুটানো পানি পান করে
তাহলে
সহজেই প্রতিরোধ করা যায় ডায়রিয়া,
টাইফয়েড ও
জন্ডিস। ফলে
চিকিৎসা খরচ কমে, কর্মঘণ্টা নষ্ট হয় না,
শিশু ও বয়স্করা নিরাপদ থাকে।
শহর,
উপশহর ও গ্রামের জন্য ব্যবহারিক করণীয়
শহরের
মানুষদের জন্য
·
দীর্ঘ সময় বসে কাজ করলে প্রতি ৩০–৪০
মিনিটে ৫ মিনিট হাঁটুন
·
ফাস্টফুড ও প্রসেসড খাবার কমান
·
বছরে অন্তত একবার ফুল বডি চেকআপ করুন
·
মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত ঘুম ও
বিশ্রাম নিশ্চিত করুন
উপশহর
এলাকার জন্য
·
বাজারের খাবারের পাশাপাশি ঘরের
রান্না বাড়ান
·
নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন
·
স্থানীয় ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক
সেন্টারে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন
·
পরিবারে বয়স্কদের নিয়মিত প্রেসার ও
সুগার চেক করুন
গ্রামের
মানুষের জন্য
·
নলকূপের বা নিরাপদ পানির ব্যবহার
নিশ্চিত করুন
·
খোলা জায়গায় পায়খানা না করে
স্যানিটারি ল্যাট্রিন ব্যবহার করুন
·
শিশুদের সব টিকা সময়মতো দিন
·
স্বাস্থ্যকর্মী বা কমিউনিটি ক্লিনিকে
নিয়মিত পরামর্শ নিন
প্রতিদিনের
সহজ অভ্যাস
·
খাবার: কম লবণ ও কম তেল-চর্বি, বেশি শাকসবজি, ডাল ও ফল, অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলা
·
ব্যায়াম: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা,
সিঁড়ি ব্যবহার করা
·
টিকা: শিশুদের পূর্ণ টিকাদান নিশ্চিত করা,
প্রাপ্তবয়স্কদের প্রয়োজন অনুযায়ী টিকা নেওয়া
·
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: নিয়মিত হাত ধোয়া
·
বিশুদ্ধ পানি পান
·
মানসিক স্বাস্থ্য: ৬–৮ ঘণ্টা ঘুম, অযথা দুশ্চিন্তা কমানো, পরিবার ও বন্ধুদের
সাথে সময় কাটানো
·
স্বাস্থ্য পরীক্ষা: বছরে অন্তত ১ বার চেকআপ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে নিয়মিত ফলোআপ
শেষ কথা
বাংলাদেশ
একটি জনবহুল দেশ, যেখানে সবার জন্য উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জিং। তাই প্রতিটি
মানুষের দায়িত্ব হলো নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং রোগ হওয়ার আগেই
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
মনে
রাখবেন, আজকের একটি ছোট ভালো অভ্যাসই আপনাকে ভবিষ্যতের বড় রোগ থেকে রক্ষা করতে
পারে।
·
আরও বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন:
o
ইমেইল: info@teledocathful.com
o
ওয়েবসাইট: www.teledocathful.com